গর্ভাবস্থায় পিঠ ও কোমরে ব্যথা অনেক নারীরই পরিচিত সমস্যা। গর্ভের শিশুর বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভারসাম্য ও পেশির ওপর চাপের পরিবর্তন ঘটে। এ ছাড়া হরমোনের প্রভাবেও পিঠে ব্যথা দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যথা গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও কিছু উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়।
কেন হয় গর্ভাবস্থায় পিঠে ব্যথা?
হরমোনের পরিবর্তন: গর্ভাবস্থায় রিল্যাক্সিনসহ বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে লিগামেন্ট ও জয়েন্টের নমনীয়তা বাড়ে। ফলে কোমর ও শ্রোণি অঞ্চলে অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
ওজন বৃদ্ধি ও শরীরের ভারসাম্য: গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি এবং মায়ের ওজন বাড়ার কারণে শরীরের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। এতে কোমর ও পিঠের পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
বসা ও দাঁড়ানোর ভঙ্গি: পেট বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকাও পিঠের ব্যথা বাড়াতে পারে।
পেশির ওপর বাড়তি চাপ: গর্ভাবস্থায় পেটের পেশি প্রসারিত হওয়ায় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে পিঠের পেশিকে তুলনামূলক বেশি কাজ করতে হয়।
মানসিক চাপ: দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের কারণে পেশিতে টান বাড়তে পারে, যা বিদ্যমান ব্যথাকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে।
ব্যথা কমাতে কী করবেন?
গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথা কমাতে কিছু সহজ অভ্যাস উপকারী হতে পারে। যেমন—
- বসা ও দাঁড়ানোর সময় শরীরের স্বাভাবিক ভঙ্গি বজায় রাখা।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম ও নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা।
- দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে বা দাঁড়িয়ে না থাকা।
- পাশ ফিরে ঘুমানো এবং প্রয়োজনে হাঁটুর মাঝখানে বালিশ ব্যবহার করা।
- ঘুমানোর জন্য আরামদায়ক ও পর্যাপ্ত সাপোর্টযুক্ত বিছানা ব্যবহার করা।
- ভারী জিনিস তোলা এবং হঠাৎ কোমর মোচড়ানো এড়িয়ে চলা।
ব্যথার জন্য নিজে থেকে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হওয়া জরুরি
পিঠে ব্যথার সঙ্গে কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে—
- ব্যথা তীব্র হলে, হঠাৎ শুরু হলে বা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে।
- জ্বর, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা প্রস্রাবের অন্য সমস্যা দেখা দিলে।
- পায়ে দুর্বলতা, অবশভাব বা ঝিনঝিন অনুভূতি হলে।
- যোনিপথে রক্তপাত, পানি ভাঙার মতো তরল বের হওয়া কিংবা নিয়মিত পেট শক্ত হয়ে ব্যথা হলে।
- শিশুর নড়াচড়া অনুভব করার পর্যায়ে নড়াচড়া স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে।
এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষত রক্তপাত, পানি বের হওয়া বা নিয়মিত সংকোচনের মতো লক্ষণ থাকলে জরুরি মূল্যায়ন প্রয়োজন।
চিকিৎসকের পরামর্শ
ডাঃ তাহমিনা আক্তার মুনা বলেন, গর্ভাবস্থায় পিঠে ব্যথা হলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ব্যথার ধরন, তীব্রতা এবং সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ রয়েছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নিরাপদ জীবনযাপন, সঠিক ভঙ্গি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা কমানো সম্ভব। কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
ডাঃ তাহমিনা আক্তার মুনা
এমবিবিএস (রামেক), বিসিএস (স্বাস্থ্য)
ডিজিও (গাইনি অ্যান্ড অবস), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
এসিএস-এএফ (আমেরিকা), সিএমইউ (আল্ট্রাসনোগ্রাফি)
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সেনবাগ, নোয়াখালী।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন