সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম — ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে নিজের দুই দশকের শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা, শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা এবং দীর্ঘ পথচলার নানা স্মৃতি তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গবেষক, সাহিত্যিক ও সমাজচিন্তক সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম।
এক আবেগঘন অভিব্যক্তিতে তিনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক কোনো আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা কিংবা নির্দিষ্ট একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, স্নেহ, শাসন, শিক্ষা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মধ্য দিয়েই এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে।
রেজাউল করিম বলেন, দেখতে দেখতে শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ ২০ বছর পার হয়ে গেছে। এই সময়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ব্যাচ এবং তাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা স্মৃতি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তার কাছে শিক্ষকতা কখনোই শুধু চাকরি বা পেশা ছিল না; বরং এটি ছিল জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এক ধরনের দায়িত্ব ও ভালোবাসা।
তিনি বলেন, দীর্ঘ এই সময়ে হাজারো শিক্ষার্থীর চোখে নতুন স্বপ্নের জন্ম নিতে দেখেছেন। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের কৌতূহল, প্রাণচাঞ্চল্য ও শেখার আগ্রহ তাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও প্রতিদিন নতুন করে অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষক হিসেবে কখনো কখনো কঠোর শাসন, বকাঝকা কিংবা পড়াশোনার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে হয়েছে। তবে সেই কঠোরতার পেছনে ছিল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর প্রত্যাশা ও মঙ্গলকামনা। তারা যেন জীবনে ব্যর্থতার কাছে পরাজিত না হয় এবং অন্যায়-অসত্যের কাছে মাথা নত না করে সততা ও মূল্যবোধ নিয়ে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে—এটাই ছিল তার প্রত্যাশা।
রেজাউল করিম আরও বলেন, কোনো শিক্ষার্থী জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করলে তিনি আড়াল থেকে সেই সাফল্যে আনন্দ ও গর্ব অনুভব করেন। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের মধ্যেই তার ২০ বছরের শিক্ষকতা জীবনের সার্থকতা ও তৃপ্তি নিহিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সময়ের ব্যস্ততায় শিক্ষার্থীরা হয়তো সবসময় যোগাযোগ রাখতে পারে না কিংবা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পায় না। তবুও শিক্ষক হিসেবে তাদের প্রতি তার ভালোবাসা ও শুভকামনায় কোনো কমতি নেই। দুই দশকের প্রতিটি শিক্ষার্থী তার কাছে হৃদয়ের গভীরে স্থান করে নিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে রেজাউল করিম বলেন, জীবনের পথে যত দূরেই তারা এগিয়ে যাক, যেন নিজেদের মূল্যবোধ ও সততা কখনো হারিয়ে না ফেলে। সততার আলোয় নিজেদের জীবন ও চারপাশ আলোকিত করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে তিনি আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা থাকুক বা না থাকুক, গত ২০ বছর ধরে যেভাবে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মতো পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন, আগামীতেও একইভাবে তাদের পাশে থাকতে চান।
রেজাউল করিম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণা, সাহিত্যচর্চা ও সমাজচিন্তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি সিটি ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন