শীতের আমেজ শুরু হতে না হতেই সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীসহ বিভিন্ন খাল-বিলে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখি। বিশেষ করে শস্যভান্ডারখ্যাত তাড়াশ উপজেলার উলুপুর দীঘির পাড়ে গাছে গাছে এখন পাখির কলরব। অতিথি পাখির সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন পড়ন্ত বিকেলে সেখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও পাখিপ্রেমীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলার উলুপুর দীঘির পাশাপাশি ঐতিহাসিক চলনবিলেও এবার বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির দেখা মিলছে। পর্যাপ্ত খাবার ও অনুকূল পরিবেশ থাকায় শীতপ্রধান বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার পাখি এ অঞ্চলে আসছে।
শীত মৌসুমে যমুনা, চলনবিলসহ বিভিন্ন খাল-বিলে বক, বদর, লালমোন, সোলি, শামুকখোল, বালিহাঁস, কাইয়ুম ও বাগাড়িসহ নানা প্রজাতির পাখির বিচরণ দেখা যায়। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির ডানা মেলা, নানা সুর ও কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে উঠেছে এসব জলাভূমি।
তাড়াশের উলুপুর দীঘি যেন এবার পরিযায়ী পাখিদের অন্যতম নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। সাইবেরিয়াসহ শীতপ্রধান বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব পাখি দীঘির চারপাশের গাছপালায় আশ্রয় নিচ্ছে। খাবারের সন্ধানে কখনো জলাশয়ে, আবার কখনো মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে তারা।
পাখিদের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় দেখা যায়। অনেকেই পাখির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে ছবি ও সেলফি তুলছেন।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও পাখিপ্রেমীরা জানান, উলুপুর দীঘির চারপাশের গাছপালা দীর্ঘদিন ধরে পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে। পাখির বিচরণ দেখতে প্রতিদিনই মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তারা অতিথি পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতপ্রধান অঞ্চলে পরিবেশ প্রতিকূল হয়ে উঠলে পাখিরা তুলনামূলক উষ্ণ ও অনুকূল পরিবেশের দেশে চলে আসে। নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশে হাজারো পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে।
এসব পাখি দীর্ঘ আকাশপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসে। অনেক প্রজাতির পাখি বছরে হাজার হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে এ দেশে পৌঁছায়। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে অতিথি পাখির আগমন শুরু হলেও ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে তাদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, উলুপুর দীঘির শান্ত জলরাশি ও চারপাশের সবুজ পরিবেশ পাখিদের আকৃষ্ট করছে। শীতের প্রকোপ কমে গেলে এসব পাখি আবার নিজেদের জন্মভূমিতে ফিরে যাবে। মূলত খাবার ও নিরাপদ পরিবেশের সন্ধানেই তারা বাংলাদেশে আসে।
তিনি আরও বলেন, অসাধু ব্যক্তিদের পাখি শিকার ও হত্যার কারণে অনেক এলাকায় অতিথি পাখির সংখ্যা কমছে। এতে প্রকৃতির ভারসাম্য ও সৌন্দর্য দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনেরও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন