ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া গ্রামের আল মামুন (২৪) রাশিয়ায় ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর আশায় গত ৭ মে দেশ ছাড়েন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণার শিকার হয়ে তাঁকে জোরপূর্বক ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়।
সম্প্রতি ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন মামুন। তাঁর মৃত্যুর খবরে চার মাসের মাথায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আট লাখ টাকার বেশি ঋণের বোঝা এবং দুই শিশুসন্তান নিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী মহিমা আক্তার ও মা রোকেয়া খাতুন।
মামুনের সঙ্গে একই ফ্লাইটে রাশিয়ায় যাওয়া এবং পরে আহত অবস্থায় দেশে ফিরে আসা ঝিনাইদহের রাজন হোসেন তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবারকে নিশ্চিত করেছেন।
রাজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘জাবাল-এ-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে মাসে দেড় লাখ টাকা বেতনের চাকরির চুক্তিতে তাঁরা ৩০ জন বাংলাদেশি রাশিয়ায় যান। গত ৮ মে সেখানে পৌঁছানোর পর ১২ মে ব্যাংক ও সিম কার্ড দেওয়ার কথা বলে তাঁদের রুশ ভাষায় লেখা একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয়।
পরে তাঁরা জানতে পারেন, সেটি ছিল রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চুক্তি। সংক্ষিপ্ত সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। রাজনের দাবি, ১৪ জুন ড্রোন ও মাইন হামলায় তাঁদের দলের অন্তত ১৭ জন বাংলাদেশি নিহত হন।
আহত অবস্থায় পালিয়ে গত ২৩ আগস্ট দেশে ফেরেন রাজন। পরে এক রুশ কমান্ডারের মাধ্যমে তিনি মামুনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
মামুনের স্ত্রী মহিমা জানান, গত ১৯ ও ২৬ আগস্ট কোনোভাবে ইন্টারনেট সংযোগ পেয়ে স্বামীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। সে সময় মামুন মাথার ওপর ড্রোন ঘোরার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে সন্তানদের খেয়াল রাখতেও স্ত্রীকে বলেছিলেন।
এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সহায়-সম্বল বিক্রি এবং চড়া সুদে ঋণ করেছিলেন মা রোকেয়া খাতুন। ছেলের মৃত্যুর পর এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি। প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন রোকেয়া।
এদিকে প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগে ‘জাবাল-এ-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’সহ তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স ইতিমধ্যে বাতিল করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তাদের জামানতও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত জানিয়েছেন, নিহত মামুনের পরিবারকে লিখিত আবেদন দিতে বলা হয়েছে। আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মরদেহ দেশে ফেরানো এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন