নোয়াখালী মাইজদী সদর হাসপাতাল রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন প্রতিষ্ঠান -
মেসার্স মতিন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট — ১০ হাজার টাকা, মেসার্স ফুড পয়েন্ট কনফেকশনারি ৫ হাজার টাকা, মেসার্স মিজান ফার্মেসি ৩ হাজার টাকাসহ মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
অভিযানে দীর্ঘদিনের পোড়া তেল ব্যবহার, নিম্নমানের লবণ দিয়ে খাবার প্রস্তুত ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খাবার প্রদর্শনের অভিযোগে মেসার্স মতিন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অনুমোদনহীন ও লেভেলবিহীন কসমেটিকস বিক্রি এবং বিদেশি পণ্যে ইচ্ছেমতো মূল্য ট্যাগ লাগানোর অভিযোগে মেসার্স ফুড পয়েন্ট কনফেকশনারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পৃথক স্থানে না রেখে বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করায় মেসার্স মিজান ফার্মেসিকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নিয়মিত বাজার তদারকিতে সুরক্ষিত হতে পারে ভোক্তার অধিকার মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, অতিরিক্ত দাম ও অনুমোদনহীন প্রসাধনী নিয়ন্ত্রণে জোরালো অভিযান প্রয়োজন জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় শহর-বন্দর, মার্কেট, কাঁচাবাজার ও মাছবাজারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় নিয়মিত বাজার তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
তাঁদের মতে, নিয়মিত নজরদারি থাকলে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনিরাপদ পণ্য বিক্রি, পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং অনুমোদনহীন কসমেটিকসসহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
বিশেষ করে খাদ্যপণ্য, মাছ, মাংস, শাকসবজি, মসলা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পণ্যের মেয়াদ, উৎপাদন ও সংরক্ষণব্যবস্থা, মূল্যতালিকা এবং ভোক্তাকে সঠিক পরিমাণে পণ্য দেওয়ার বিষয়গুলোও তদারকির আওতায় আনা জরুরি।
বাজারে অনুমোদনহীন বা মানহীন প্রসাধনী ও অন্যান্য পণ্য বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এসব পণ্য ব্যবহারে ভোক্তার স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও মান যাচাই ছাড়া কোনো পণ্য বাজারজাত বা বিক্রি হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে বাজারে শৃঙ্খলা আরও জোরদার হতে পারে। পাশাপাশি অভিযানের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন করাকেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু বিশেষ উপলক্ষ বা অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, সারা বছর ধারাবাহিকভাবে বাজার তদারকি ও আইন প্রয়োগ করা হলে অসাধু ব্যবসায়ীদের অনিয়ম কমানো এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য দামে নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।
ভোক্তাদেরও পণ্য কেনার সময় মেয়াদ, মূল্য, লেবেল ও অনুমোদনের তথ্য যাচাই করার পাশাপাশি অতিরিক্ত মূল্য বা অনিয়মের শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন