বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে দেশের পর্যটন, চা, বস্ত্র ও গ্যাস খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট নগরভবন প্রাঙ্গণে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সিলেটে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ খাতে আরও উন্নতির সুযোগ আছে। প্রবাসীরা পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করলে এ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
তিনি বলেন, সিলেটের চা, বস্ত্র ও গ্যাস খাতে প্রবাসীদের বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে।
দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে অভিন্ন ইস্যুতে সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি দলনিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়েছেন। দল, মত ও গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
সিলেটে রাষ্ট্রপতির কর্মসূচি
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে রাষ্ট্রপতি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরভবন প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতির সম্মানে নাগরিক সংবর্ধনা শুরু হয়। এতে সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানকে ঘিরে নগরভবন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সংবর্ধনা বর্জন মহানগর বিএনপির
তবে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। দলটির কোনো নেতা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
মহানগর বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, সংবর্ধনা আয়োজনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক একক সিদ্ধান্তে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন এবং মহানগর বিএনপির নেতাদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও জানান, রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারতের সময় মহানগর বিএনপি নেতাদের জন্য যে গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সেটিতে মাজার এলাকায় প্রবেশের পাস না থাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা গাড়িটি মূল সড়কে আটকে দেন। পরে দলের সিনিয়র নেতাদের হেঁটে মাজারে যেতে হয় বলে দাবি করেন তারা।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, নানা কারণে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অংশ নেবেন না। তবে কারণগুলো তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করতে চাননি। তিনি জানান, সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছাড়া রাষ্ট্রপতির অন্যান্য কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির নেতারা অংশ নিয়েছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন