আসন্ন উপনির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।
সানাউল্লাহ বলেন, উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবে। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের মতোই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সবাই একমত হয়েছেন। তবে ভোট শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে কমিশন বৈঠকে চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সময়সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা থাকায় ওই সময়ে নির্বাচন আয়োজন কঠিন। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারিতে রোজা এবং এরপর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা কমিশনকে অনুরোধ করেছেন, যাতে নির্বাচনের কারণে কোনোভাবেই পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষকদের প্রায় এক সপ্তাহ প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি খাতা মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
তিনি জানান, বাজেট পরিকল্পনা, জনবল ও সচিবালয় পর্যায়ের সমন্বয়সহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। এরপর কমিশন বৈঠকে নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করে তা প্রকাশ করা হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে এর আগে যে সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছিল, সেটি চূড়ান্ত নয় বলেও জানান সানাউল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, সেটি ছিল প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার ভিত্তিতে তৈরি একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা। ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর পাওয়া সব তথ্য বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আগেই নির্ধারিত ছিল।
সানাউল্লাহ বলেন, কমিশন আগের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সব উপাত্ত পর্যালোচনা করে কমিশন বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন