সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানার চত্বরে কাভার্ড ভ্যানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জামগড়া এলাকায় প্রিটি গ্রুপের একটি কারখানা চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারখানা চত্বরে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই ভ্যানটিতে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন আশপাশে থাকা আরও ৬ থেকে ৭টি গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডিউটি অফিসার শাহজাহান মিয়া জানান, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে কারখানা চত্বরে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার স্টেশনের দুটি এবং ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
রাত ১০টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রম রাত ১১টা ৪২ মিনিটে শেষ হয়। ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নজরুল নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার পরপরই জয়নব বেগম নামে এক নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ জনে।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম জানান, কারখানার গেটের সামনে থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কারখানার ভেতরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ জানান, বিস্ফোরণে আহত অন্তত ২৫ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই কারখানার আশপাশের সবজি বিক্রেতা ও পথচারী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে ৫ থেকে ৬ জনের শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতরভাবে দগ্ধ হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে আহতদের মধ্যে কারখানার কোনো কর্মী রয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর দুর্ঘটনার কারণ ও হতাহতদের পরিচয় শনাক্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন