যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি–জুলাই) ইইউভুক্ত ২৭ দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অফিস ইউরোস্ট্যাটের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে বাংলাদেশ ইইউর বাজারে ১ হাজার ৩৭ কোটি ২৮ লাখ ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে বাংলাদেশের প্রধান দুই প্রতিযোগী চীন ও ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং চীনের ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
ইউরোপে পোশাক আমদানিই কমেছে
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ইইউভুক্ত দেশগুলো বিশ্ববাজার থেকে মোট ৫ হাজার ১৬১ কোটি ৩৭ লাখ ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আমদানি কমেছে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ।
অর্থাৎ ইউরোপের ব্যবসায়ীরা সামগ্রিকভাবে বিশ্ববাজার থেকে পোশাক কেনা কমালেও চীন ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানি বাড়িয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ইউরোপীয় বাজারের সামগ্রিক পতনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে।
শীর্ষ ১০ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার রপ্তানিও কমেছে। তবে এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশের পতনের হার সবচেয়ে বেশি।
দামের দিক থেকেও পিছিয়ে বাংলাদেশ
ইউরোপের বাজারে চীনের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্যও কম। আলোচ্য সময়ে চীন প্রতি কেজি তৈরি পোশাক গড়ে ২০ দশমিক ২০ ইউরো দরে রপ্তানি করেছে। সেখানে বাংলাদেশের গড় রপ্তানি মূল্য ছিল প্রতি কেজি ১৩ দশমিক ৮০ ইউরো।
গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্যও প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও পতন
ইউরোপের পাশাপাশি বাংলাদেশের বৃহত্তম একক বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও পোশাক রপ্তানি কমেছে।
মার্কিন দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।
তবে রপ্তানি কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারকের অবস্থান ধরে রেখেছে।
প্রতিযোগিতায় বাড়ছে উদ্বেগ
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে ধারাবাহিক রপ্তানি কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্টরা।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটও পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, ইউরোপে ভোক্তা পর্যায়ে পোশাকের চাহিদা কমার পাশাপাশি চীনের আগ্রাসী বিপণন এবং ভারতের সঙ্গে ইইউর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) কারণে অনেক ক্রেতা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
অন্যদিকে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ইউরোপের বাজারে সামগ্রিক আমদানি কমলেও বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর রপ্তানি বাড়াটা উদ্বেগের বিষয়।
তবে তাঁর মতে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় জুন ও জুলাইয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি কমার প্রবণতা কিছুটা কমেছে। ফলে বছরের বাকি সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন