কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। নাব্য সংকটের কারণে ১৬ দিন ধরে ফেরি বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকেরা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট থেকে এ নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ জানান, রৌমারী ঘাট ও দুইশ বিঘা এলাকায় পানি কমে যাওয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে তিনটি ফেরি চলাচল শুরু করে। উদ্বোধনের পর কিছুদিন দুটি ফেরির মাধ্যমে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পারাপার করা হয়। পরে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘কুঞ্জলতা’ নামের দুটি ফেরি সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে ‘কদম’ নামের একটি ফেরি রয়েছে।
আকিব সোহেল আকাশ বলেন, এই নৌপথ চালুর পর অর্ধেকেরও বেশি সময় ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে নাব্য সংকটের কারণ দেখিয়ে ৫৪২ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।
শনিবার সকালে চিলমারী নৌবন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে কয়েকটি পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রয়েছে। ফেরি বন্ধ থাকায় অনেক চালককে ফিরে যেতে হচ্ছে।
ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা ট্রাকচালক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় ১৫টি ট্রাক ফিরে গেছে। তিনিও ফেরি বন্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছেন।
রংপুর থেকে আসা ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন ধরে ঘাটে অপেক্ষা করছেন ফেরি চলাচল শুরুর আশায়। ফেরি না চললে অতিরিক্ত পথ ঘুরে ঢাকায় যেতে হবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আন্ধার মানিক’ নামে একটি শক্তিশালী ড্রেজিং মেশিন রয়েছে। সেটি দিয়ে নৌপথ খনন করা হলে সহজেই ফেরি চলাচল করতে পারবে এবং মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, রৌমারী ঘাট ও দুইশ বিঘা এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। ১৫ আগস্ট ড্রেজিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আরও দুটি ড্রেজার পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে এখনো সেগুলো পাঠানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে রৌমারী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ঘাটের ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফেরি চলাচল দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
তবে ড্রেজিংয়ের কাজে স্থানীয়দের বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রৌমারী ঘাট এলাকার বাসিন্দারা। আসাদুল ইসলাম, আনিছুর রহমান ও জাহিদসহ স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ড্রেজিং কাজে কেউ বাধা দেয়নি। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই খননকাজ বন্ধ রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে ড্রেজিংয়ের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর)-১০, চিলমারী সমীর চন্দ্র পাল বলেন, রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের বাধার কারণে খননকাজ বন্ধ রয়েছে। তবে দুইশ বিঘা এলাকায় ড্রেজিং চলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চিলমারী-রৌমারী নৌপথে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস চালু রাখা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন