সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে ১২৯ বার প্রতিবেদন দাখিলের সময় পেছানো হলো। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ দিন ধার্য করেন।
এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। পরে আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় বর্তমানে আসামি রয়েছেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের বন্ধু তানভীর রহমান খান। তাদের মধ্যে তানভীর জামিনে রয়েছেন। পলাশ রুদ্র পাল জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন। অন্য আসামিরা কারাগারে রয়েছেন।
যেভাবে শুরু হয় তদন্ত
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই)। হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) কাছে দেওয়া হয়।
উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন
দীর্ঘদিনেও মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকেও সরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।
এরপর গত বছরের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
তবে এরপরও দীর্ঘদিনে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ একের পর এক পিছিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন