ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার একটি মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে একই আদালত গত ২০ মে প্রতারণার ওই মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ। পরে বুধবার বেলা ১১টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
বিদিশার পক্ষে আইনজীবী আতিকুর রহমান আপিলের শর্তে বিশেষ বিবেচনায় জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, মামলাটিতে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল, পরে তা বাতিল হয়ে আসে। বিদিশার অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার ও রায় হয়েছে। তাই আপিলের শর্তে তার জামিন চাওয়া হচ্ছে।
তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মামলাটি চললেও বিদিশা আদালতে উপস্থিত হননি। আদালতের আদেশ সম্পর্কে অবগত থাকার পরও তিনি আদালতে আসেননি বলে অভিযোগ করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলামও জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে শুনানির সময় তাকে এজলাসে তোলা হয়নি।
মামলার অভিযোগ
রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলাটি করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বারিধারায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য খোঁজ করার সময় মোশাররফ হোসেন জানতে পারেন, বিদিশা প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করবেন। ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাকে ফ্ল্যাটটি দেখিয়ে বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ৮০ লাখ টাকায় ফ্ল্যাটটি বিক্রির জন্য চুক্তি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করা হয় এবং উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।
পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়।
বাদীর অভিযোগ, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে বিদিশা টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই ফেরত দেননি। এমনকি তাকে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন