বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ মুক্তা বেগম (৪৯) বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মামলাটি দায়েরের বিষয়টি বুধবার (২৬ আগস্ট) নিশ্চিত করেন আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুসংকর মল্লিক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর চাদত্রিশিরা গ্রামের বাসিন্দা মুক্তা বেগমের স্বামী প্রায় তিন বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তিনি আট বছর বয়সী এক মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলার আসামিরা বিভিন্ন সময় ওই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোসহ বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৯ আগস্ট বিকেলে মুক্তা বেগম ও তার মেয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ির দরজায় কড়া নাড়েন। পরিচয় জানতে চাইলে মামলার প্রধান আসামি আকাশ নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলেন।
দরজা খুলে দিলে আকাশ হাওলাদার ও বাবুল খান জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করেন মুক্তা বেগম। পরে আকাশ তার মুখ চেপে ধরে বারান্দার খাটে শুইয়ে শ্লীলতাহানি করেন এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় অপর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি দরজার বাইরে পাহারা দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি আগৈলঝাড়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তদন্তের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করে। পরে স্বজনদের পরামর্শে তিনি বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি আবেদন করেন।
আদালত আবেদনটি পর্যালোচনা করে অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আগৈলঝাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন—আগৈলঝাড়া উপজেলার বড় বাশাইল গ্রামের বেলায়েত হাওলাদারের ছেলে আকাশ হাওলাদার (৩৫) এবং উত্তর চাদত্রিশিরা গ্রামের ফয়জুদ্দিন খানের ছেলে বাবুল খান (৪০)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুসংকর মল্লিক বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন