9 জন পড়েছেন
কুমিল্লায় পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতা : ৭ শিক্ষককে ওএসডি
কুমিল্লায় চরম অব্যবস্থাপনা ও বৈরি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গত ১৩ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টির পর পরীক্ষাকমিটিতে সম্পৃক্ত কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাতজন শিক্ষককে ওএসডি করা হয়েছে। তাদের নতুন কর্মস্থল কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট ও বরগুনা জেলায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাত শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় একই তারিখ অপরাহ্ণ থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত মর্মে গণ্য হবেন।
বদলি করা শিক্ষকদের মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম জহিরুল আলমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজে, গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজে, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজে, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।
কলেজের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কলেজে একসঙ্গে এত শিক্ষকের বদলি এই প্রথম। জলাবদ্ধতার কারণ শুধু শিক্ষকদের ওপর দায় চাপিয়ে এমন বদলিকে ‘হয়রানিমূলক বদলি’ বলে অবহিত করে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কলেজের পেছন হয়ে বাম পাশ ঘেষে নগরীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান নালাটি প্রবাহিত হচ্ছে। নগরীর অব্যবস্থাপনার কারণে নালাটি অনেকাংশেই সংকীর্ণ ও প্রায় ভরাট হয়ে এসেছে। ফলে একটু বৃষ্টি হলেই মহিলা কলেজসহ পাশেই অবস্থিত কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়, কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল), সালাউদ্দিন মোড়, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড, ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বর পাঠশালাসহ আশপাশে অবস্থিত প্রাইভেট ক্লিনিক/হাসপাতাল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানুষের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়ে পড়ে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, বদলিকৃত সাত শিক্ষকের মধ্যে দুইজন সরাসরি পরীক্ষা কমিটিতে ছিলেন না।
বদলি করা সাত শিক্ষকদের মধ্যে উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম ও অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারের ছেলে এই বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় বিধি মোতাবেক তারা পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা কমিটিতে ছিলেন না। তবে অপর ৫ শিক্ষক সরাসরি পরীক্ষা কমিটিতে সম্পৃক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই সকালে ৩ ঘন্টার অতিবৃষ্টির কারণে শহরের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ এ কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তবে এই কেন্দ্রে মাত্রাতিরিক্ত পানি ওঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু সেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় ছোট নৌকা ও ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। এমতাবস্থায় কেউ কেউ পানি মাড়িয়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তবে কেন্দ্রের নিচ তলায় পানি ওঠায় এসব কক্ষের পরিক্ষার্থীদের উপরের বিভিন্ন ফ্লোর ও কক্ষে পরিক্ষা গ্রহণ করা হয়।
এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদের প্রকাশের পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে কুমিল্লাসহ সারাদেশে পরীক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। এ কেন্দ্রে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ১ হাজার ৩০৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে একইদিন পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে বোর্ড কর্তৃক কেন্দ্র স্থানান্তর করে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো নগরীর ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী পরিক্ষাসমূহ গ্রহণ করা হচ্ছে।
“
কুমিল্লায় পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতা : ৭ শিক্ষককে ওএসডি
—
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বদলি হওয়া একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ জানিয়ে ফেস দ্যা পিপলকে বলেন, এই কলেজে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র আছে। ২ থেকে ৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে এই নগরী প্লাবিত হয়ে যায়। তাহলে জলাবব্ধতার দায় কি শুধু শিক্ষকদের। পরীক্ষার দিন বৃষ্টিতে পরীক্ষা চলবে কিনা এমন সিদ্ধান্ত বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। পরীক্ষা চলবে নাকি বন্ধ হবে এমন সিদ্ধান্ত কেন্দ্র পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা এককভাবে দিতে পারেন না। এখনো পরীক্ষা শেষ হয়নি। তাই, এই সময়ে একসঙ্গে কলেজের ৭ সিনিয়র শিক্ষককে বদলি করার সিদ্ধান্ত অমানবিক।
কলেজ যোগদানকৃত নতুন অধ্যক্ষ মোসাম্মৎ আমেনা বেগম আজ শুক্রবার ফেস দ্যা পিপলকে বলেন, ‘আমি গত বুধবার এ কলেজে যোগদান করেছি। বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষকদের বদলির আদেশ জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো না। তবে ভবিষ্যতে এ পরীক্ষা কেন্দ্রে আর যাতে জলাবদ্ধতা তৈরি না হয় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
“
কুমিল্লায় পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতা : ৭ শিক্ষককে ওএসডি
—
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ আজ বিকেলে ফেস দ্যা পিপলকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বদলির এই আদেশে তো পরীক্ষা কেন্দ্রের অব্যবস্থাপনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এমন বদলি সব সময়ই হয়ে থাকে। এ বদলির সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রের জলাবদ্ধতার বিষয়টি জড়িত কিনা বলতে পারবো না।’