বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে চরম শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে। বিদ্যালয়টির ১৮টি শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ছয়জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে কোনো শিক্ষক না থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের অনেকেই এখন প্রাইভেট পড়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
শুধু শিক্ষক নয়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মচারীর পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমও নানা সমস্যার মুখে পড়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগে নেই শিক্ষক, বন্ধের পথে ক্লাস
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮৪ সালে জাতীয়করণ করা ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলছে। সরেজমিনে জানা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগে কোনো শিক্ষক না থাকায় বিজ্ঞান বিষয়ের ক্লাস প্রায় বন্ধ রয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয় না। এমনকি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদেরও এ বিভাগে ভর্তি না হওয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের দুটি, গণিতের দুটি, জীববিজ্ঞানের একটি, সামাজিক বিজ্ঞানের তিনটি এবং ট্রেড বিষয়ের দুটি শিক্ষক পদ সম্পূর্ণ শূন্য রয়েছে। ইংরেজি ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে একজন করে শিক্ষক থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম হওয়ায় তাদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে।
এতে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কর্মচারীর পদও শূন্য
বিদ্যালয়ের উচ্চমান ও নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক, নিরাপত্তাকর্মী এবং চতুর্থ শ্রেণির একাধিক কর্মচারীর পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ফলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনাতেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
ছাত্রীদের অভিভাবক শহিদুল ইসলাম ও মশিউর রহমান বলেন, ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন।
তারা বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে প্রাইভেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগের পর অন্তত দুই বছর বদলি না করার মতো সরকারি নিয়ম চালু করা গেলে এ ধরনের সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বারবার চাহিদাপত্র দিয়েও মিলছে না শিক্ষক
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, শিক্ষক ও কর্মচারীর শূন্য পদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো চাহিদা অনুযায়ী জনবল পাওয়া যায়নি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এইচ. এম. শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক ও কর্মচারী সংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হলেও সীমিত জনবল দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।
শিক্ষক সংকট দ্রুত সমাধান না হলে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাই শূন্য পদগুলোতে দ্রুত শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন