গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। টানা ২৬ দিন ধরে কেন্দ্রটি অচল থাকায় এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের আরও দুটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে যাওয়ায় পুরো ময়মনসিংহ বিভাগে তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
আরপিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শম্ভুগঞ্জে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল)। কেন্দ্রটিতে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নির্মাণ করে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।
তবে দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্রমেই কমেছে। বর্তমানে গ্যাসের অভাবে কেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিন ধাপে প্রকল্পটিতে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে ২০০৭ সালের পর দেশে গ্যাস সংকট বাড়তে থাকায় কেন্দ্রটিতে গ্যাস সরবরাহও কমতে থাকে।
আরপিসিএলের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার হলেও কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছিল না। গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদনের এই নাজুক পরিস্থিতি আরপিসিএলের বার্ষিক প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে কেন্দ্রটির মাসভিত্তিক উৎপাদন কোনো কোনো মাসে ৪০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রটির প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৪৫ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা ছিল ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে গ্যাস সংকট বাড়ার পাশাপাশি কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহারও কমেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ দিন ধরে গ্যাসের অভাবে কেন্দ্রটির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে ময়মনসিংহ বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএইচএম রাশেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল-গ্যাস ও খনিজ পদার্থ সরবরাহের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার একটি চুক্তি হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তেল-গ্যাস ও খনিজ পদার্থ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় দেশে জ্বালানি ও গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে।
এএইচএম রাশেদ আরও বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে ২৬ দিন ধরে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে ময়মনসিংহ বিভাগে লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কেন্দ্রটিতে আবার বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন