বান্দার ইবাদত-বন্দেগির মূল উদ্দেশ্য হলো একমাত্র মহান রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জন। কিন্তু সেই ইবাদত যদি মানুষের প্রশংসা বা দেখানোর উদ্দেশ্যে করা হয়, তাহলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। বরং লোক দেখানো আমল মানুষের জন্য আখিরাতে ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ، وَمَنْ يُرَائِي يُرَائِي اللَّهُ بِهِ
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি মানুষকে শোনানোর জন্য কোনো আমল করে, আল্লাহ তার প্রকৃত উদ্দেশ্য মানুষের সামনে প্রকাশ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য আমল করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে মানুষের সামনে প্রকাশ করে লাঞ্ছিত করবেন।
(বুখারি, হাদিস: ৬৪৯৯)
ইমাম ইবন হাজার আসকালানি (রহ.) ‘ফাতহুল বারি’ গ্রন্থে ‘রিয়া’ ও ‘সুমআহ’-এর ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, মানুষের দৃষ্টিতে নিজেকে বড় করার উদ্দেশ্যে ইবাদত বা নেক আমল করাকে ‘রিয়া’ বলা হয়। আর নিজের নেক আমলের কথা এমনভাবে প্রকাশ করা, যাতে মানুষ তা শুনে প্রশংসা করে ও সুনাম ছড়ায়, তাকে ‘সুমআহ’ বলা হয়।
অর্থাৎ, একটি মানুষের চোখকে লক্ষ্য করে, অন্যটি মানুষের কানকে লক্ষ্য করে। তবে উভয়ের উদ্দেশ্য যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে মানুষের প্রশংসা অর্জন হয়, তাহলে তা ইখলাসের পরিপন্থী।
(ফাতহুল বারি, ১১/৩৩৬-৩৩৭)
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
‘অতএব দুর্ভোগ সেই নামাজিদের জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন; যারা লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করে।’
(সুরা মাউন, আয়াত: ৪-৬)
তাফসিরে কুরতুবিতে বলা হয়েছে, এই আয়াতে শুধু নামাজ পরিত্যাগকারীদের সতর্ক করা হয়নি; বরং যারা নামাজ আদায় করলেও আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে মানুষের প্রশংসা কামনা করে, তাদেরও সতর্ক করা হয়েছে।
রিয়া নেক আমল ধ্বংস করে
রিয়া বা লোক দেখানো এমন একটি গোপন ব্যাধি, যা মানুষের নেক আমলকে ভেতর থেকে নষ্ট করে দিতে পারে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সতর্ক করে বলেছেন, তিনি তাঁদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি ভয় করেন, তা হলো ছোট শিরক।
সাহাবিরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রিয়া (লোক দেখানো)।’
(মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ২৩৬৩০)
কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার হবে, তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও থাকবে, যে কোরআন শিক্ষা করেছে, ইলম অর্জন করেছে অথবা আল্লাহর পথে দান করেছে। কিন্তু যদি তার উদ্দেশ্য হয় মানুষ তাকে আলেম, ক্বারি বা দানশীল হিসেবে প্রশংসা করুক, তাহলে তার সেই আমল গ্রহণযোগ্য হবে না।
(মুসলিম, হাদিস: ১৯০৫)
সুতরাং বাহ্যিকভাবে কোনো আমল যত বড়ই হোক না কেন, ইখলাস ছাড়া তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। একজন মুমিনের তাই শুধু কত বেশি আমল করা হলো, সেটিই চিন্তার বিষয় হওয়া উচিত নয়; বরং তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—আমলটি কতটা একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন