বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের কার্যকর নেতৃত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরলস পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার পাশাপাশি এ সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘এসএসসি স্টুডেন্ট সাকসেস প্রজেক্ট-২০২৬’।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোট ১০৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে নির্বাচনী পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা ৪০ জন শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করে বিশেষভাবে প্রকল্পের আওতায় আনা হয়।
সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে এসব শিক্ষার্থীকে নিয়ে শুরু হয় ‘এসএসসি স্টুডেন্ট সাকসেস প্রজেক্ট-২০২৬’। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করা এবং পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য তাদের প্রস্তুত করে তোলা।
প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অনুশীলন, পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতি, বিশেষ তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্বল, কোথায় অতিরিক্ত সহযোগিতা প্রয়োজন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়—এসব বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ার পাশাপাশি পরীক্ষামুখী প্রস্তুতিতেও গতি আসে। প্রকল্পের আওতায় থাকা ৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জন এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে প্রকল্পভুক্ত শিক্ষার্থীদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একাডেমিক ফলাফলে পিছিয়ে থাকা অনেক শিক্ষার্থী একসময় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। তবে তাদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে আলাদা মনোযোগ, নিয়মিত অনুশীলন, উৎসাহ ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হলে তারাও ভালো ফলাফল করতে পারে। ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ তারই একটি বাস্তব উদাহরণ। বিদ্যালয়ের উপজেলায় পাসের হারে শীর্ষস্থান অর্জনকে কোনো একক উদ্যোগের ফল হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এ সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন তারা।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি অভিভাবকরাও সন্তানদের পড়াশোনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছেন।
এর সঙ্গে পিছিয়ে থাকা ৪০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের পরিকল্পিত ‘এসএসসি স্টুডেন্ট সাকসেস প্রজেক্ট-২০২৬’ সাফল্যের ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রকল্পটির বিশেষত্ব ছিল—শুধু ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের আরও এগিয়ে নেওয়া নয়; বরং পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনা চিহ্নিত করে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেওয়া।
৪০ জনের মধ্যে ৩১ জন শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—পিছিয়ে থাকা মানেই ব্যর্থতা নয়; প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা। ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের এবারের ফলাফল তাই শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পরিসংখ্যান নয়; এটি পরিকল্পিত শিক্ষা কার্যক্রম, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব সহযোগিতার একটি অনুপ্রেরণাদায়ী দৃষ্টান্ত।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই সাফল্যের ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে এবং পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন