কোচের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাঁকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা করেছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন।
ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, রোনালদোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলের মতে, রোনালদো ইচ্ছাকৃতভাবে ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘন করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচকে কেন্দ্র করে। ওই ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকতে হয় রোনালদোকে। পরে কোচের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। কোচ জর্জ জেসুস তাঁর ভূমিকা নিয়ে দুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করেননি—এমন অভিযোগ তুলে ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচের আগে কোপেনহেগেনে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান এই তারকা ফরোয়ার্ড।
তবে রোনালদোর সঙ্গে কোনো সমঝোতার কথা অস্বীকার করেছেন কোচ জর্জ জেসুস। পরে তিনি জানান, জাতীয় দলে রোনালদোর ফেরার পথ খোলা রয়েছে।
এদিকে, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর সমর্থকদের অভিবাদন না জানানো এবং সতীর্থদের রেখে চলে আসার ঘটনায় ক্ষমা চান রোনালদো। একই সঙ্গে তিনি জানান, এ ঘটনার জন্য যে শাস্তিই দেওয়া হোক না কেন, তা ভোগ করার পর আবারও জাতীয় দলে ফিরতে প্রস্তুত তিনি।
তবে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা কোন কোন ম্যাচ বা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে ফেডারেশনের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। এ ছাড়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইতোমধ্যে পার হওয়া সময় চূড়ান্ত শাস্তির মেয়াদ থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না, তা-ও পরিষ্কার নয়।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা জানিয়েছেন, বিষয়টির সমাধান হলে ফেডারেশনের সবাই রোনালদোকে আবার জাতীয় দলে দেখতে চান।
আগামী ১৫ নভেম্বর ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রোনালদোর শাস্তি ও জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে এখন ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন