নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা থেকে সেনবাগ অভিমুখী নবনির্মিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কটি ভারী যানবাহনের চাপে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে দেবে যাওয়া, পিচ উঠে যাওয়া এবং বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির এমন বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে সড়কটি চালুর পর থেকেই এর ওপর দিয়ে নিয়মিত বালুবোঝাই ভারী ডাম্পার ট্রাক চলাচল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গ্রামীণ সড়কটির ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি ওজন নিয়ে এসব যানবাহন চলাচল করায় অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গেছে এবং কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি স্থানে সড়কের পাশের মাটি ভেঙে পুকুর ও নালার দিকে ধসে পড়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ছোট যানবাহন, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু অসাধু বালু ব্যবসায়ীর স্বার্থে সড়কটিতে অতিরিক্ত ভারী ডাম্পার চলাচল করছে। তাঁদের দাবি, এসব ডাম্পারে বিপুল পরিমাণ বালু পরিবহন করা হয়, যা সড়কটির স্থায়িত্ব ও কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। ডাম্পার চলাচলের সময় ধুলাবালিতে আশপাশের এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি গ্রামীণ সড়ক নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা বিবেচনায় নির্মাণ করা হয়। অথচ অতিরিক্ত ওজনের ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক অল্প সময়েই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তাঁদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
এদিকে, অবৈধভাবে বালু পরিবহন এবং সড়কের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ডাম্পার চলাচলের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি দ্রুত মেরামত করতে হবে। একই সঙ্গে সড়কের ধারণক্ষমতা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ওজন বহনকারী ডাম্পারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে এবং জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে। তাই সড়কটির স্থায়িত্ব রক্ষা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন