বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট মিঠুন চৌধুরীকে হোয়াটসঅ্যাপে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় করা জিডির নম্বর ১২১১। একই সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন মিঠুন চৌধুরী।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ বিষয়ে তিনি জানান, রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথোপকথনের একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্য যাচাই এবং তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
মিঠুন চৌধুরীর অভিযোগ, নজরুল ইসলাম বুলবুল নামে এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাঁকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ও কল-লগের কিছু তথ্য তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব তথ্য আইনানুগ পদ্ধতিতে যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মিঠুন চৌধুরী বলেন, “আমি বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মতিঝিল থানায় জিডি করেছি। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”
তিনি আরও বলেন, “কেউ যেন রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কাউকে হত্যার হুমকি দেওয়া বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের সাহস না পায়, সে জন্য আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ ধরনের ঘটনা উপেক্ষা করা হলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। আমি চাই, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষ্য, অভিযোগের সমর্থনে থাকা তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে মিঠুন চৌধুরী দাবি করেছিলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহসহ শতাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ হলেও হুমকি বা সহিংসতার ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়।
মিঠুন চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এতে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম বুলবুলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। জিডির বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি জানা গেলে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন