বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট মিঠুন চৌধুরী হোয়াটসঅ্যাপে গুলি করে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। অভিযোগটির বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মিঠুন চৌধুরীর অভিযোগ, নজরুল ইসলাম বুলবুল নামে এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ-সংক্রান্ত রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় তাঁকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে এ ধরনের হুমকি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে জানান তিনি।
মিঠুন চৌধুরী বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানুষের অধিকার আদায় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে আমাকে রাষ্ট্রদ্রোহসহ শতাধিক মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে কাটিয়েছি। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাকে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। এরপরও আমি আমার রাজনৈতিক আদর্শ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আপস করিনি।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু রাজনৈতিক মতপ্রকাশের জবাবে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি চাই, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
মিঠুন চৌধুরী জানান, সংশ্লিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার ভয়েস কলের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে। এসব যোগাযোগের কল-লগের স্ক্রিনশট তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। স্ক্রিনশটে একটি বার্তা মুছে ফেলার চিহ্নও দেখা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট এবং প্রাসঙ্গিক ডিজিটাল তথ্য আইনানুগ পদ্ধতিতে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে মিঠুন চৌধুরী বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার স্বার্থে এ ধরনের হুমকির যথাযথ প্রতিকার হওয়া জরুরি।”
তিনি অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্ত, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ ও যাচাই এবং নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মিঠুন চৌধুরীর মতে, মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। ভয়ভীতি বা সহিংসতার হুমকি দিয়ে এ অধিকার বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি নজরুল ইসলাম বুলবুলের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফলাফল ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা নির্ধারিত হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন