ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে জ্বরের পাশাপাশি তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র্যাশ দেখা দিতে পারে। তবে ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে শুধু প্রাথমিক উপসর্গ শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়, রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন এবং বিপৎসংকেতের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। চিকিৎসকেরা বলছেন, সময়মতো চিকিৎসা ও যথাযথ পর্যবেক্ষণ গুরুতর জটিলতা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডা. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুতে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত মনে করা ঠিক নয়। বরং এ সময় কিছু রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, বমি কিংবা পায়খানায় রক্ত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা ও শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু সন্দেহ হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি শরীরে পানিশূন্যতা রোধে তরল খাবার ও পানি গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর ও ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেনসহ কিছু ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। এসব ওষুধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. মাজহারুল ইসলাম বলেন, বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পানির পাত্র ঢেকে রাখার মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল কমানো সম্ভব। পাশাপাশি মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ও মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট পরামর্শ হলো, জ্বরের সঙ্গে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বিপৎসংকেত দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে।
পরামর্শে
ডা. মাজহারুল ইসলাম
এমবিবিএস (চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ)
বিসিএস (স্বাস্থ্য)
এফসিপিএস (এফপি)—গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি
মেডিকেল অফিসার
সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন