বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্থান হাতছাড়া হয়েছে। বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে চীন। বরাবরের মতোই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৫৩৯ কোটি ৩৪ লাখ (৫ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন) ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম।
অন্যদিকে, একই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৬৩ কোটি ৭ লাখ (৫ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। যদিও দেশটির রপ্তানিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে। তবে রপ্তানির পরিমাণে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় অবস্থান দখলে নিয়েছে চীন।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ (৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল। এ রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কম। একই সময়ে চীন রপ্তানি করেছিল ৪৫৫ কোটি ৫৭ লাখ (৪ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক। চীনের রপ্তানিও আগের বছরের জানুয়ারি-জুলাইয়ের তুলনায় ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ কমেছিল।
একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। দেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে।
অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৯৭৩ কোটি (৯ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন) ডলারে উন্নীত হয়েছিল। তবে ২০২৩ সালে রপ্তানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে ৭২৯ কোটি ডলারে নেমে আসে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সামান্য বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। প্রবৃদ্ধি ছিল শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে রপ্তানি প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে ৮২০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়।
এদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৫ লাখ (৪৯ দশমিক ০৭ বিলিয়ন) ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এ আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। গত বছরের প্রথম আট মাসে দেশটির ব্যবসায়ীরা মোট ৫ হাজার ৩০০ কোটি ৮২ লাখ (৫৩ বিলিয়ন) ডলারের পোশাক আমদানি করেছিলেন।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী দেশ ছিল ভিয়েতনাম। এ সময়ে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ১০৫ কোটি ৯২ লাখ ডলার থেকে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে নেমে এসেছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাকের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন