সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১২ নম্বর গাবুরা ইউনিয়নে সুন্দরবনকেন্দ্রিক বনজীবীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, বনদস্যুদের সঙ্গে যোগসাজশ, জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ে সহযোগিতা এবং সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে মেহেদী হাসান, গাবুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি.এম. বিল্লাল হোসেন এবং ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জি.এম. ইয়াসিন আরাফাতের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গাবুরা ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সুন্দরবনে প্রবেশ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু সুন্দরবনকেন্দ্রিক বনদস্যুদের তৎপরতা এবং তাদের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির যোগসাজশের অভিযোগে সাধারণ বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এতে তাদের স্বাভাবিকভাবে জীবিকা নির্বাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও বনদস্যুদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সুন্দরবনগামী জেলেসহ বনজীবীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ আদায় করছেন। তাদের দাবি, জেলেদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয় এবং আদায় করা অর্থের একটি অংশ বনদস্যুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, জি.এম. বিল্লাল হোসেন ও তার ছেলে জি.এম. ইয়াসিন আরাফাত বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের পরিচয় ব্যবহার করেও তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
এদিকে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়। বক্তারা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলায় পলাতক আসামি থাকার অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও পুলিশ সদস্যদের হয়রানি এবং ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও করেন তারা।
বক্তাদের অভিযোগ, জি.এম. ইয়াসিন আরাফাত ঢাকায় অবস্থান করেও সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। তার বাবা জি.এম. বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে এলাকায় অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা মেহেদী হাসান, জি.এম. বিল্লাল হোসেন ও জি.এম. ইয়াসিন আরাফাতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
একই সঙ্গে সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান, জি.এম. বিল্লাল হোসেন ও জি.এম. ইয়াসিন আরাফাতের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন