চলতি পঞ্জিকা বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা প্রায় ২৭৭ কোটি ডলার। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এ অঙ্ক ৩ শতাংশ বেশি হলেও গত ১১ মাসের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন মাসিক রেমিট্যান্স।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৮ কোটি ডলার বা ৩ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অবশ্য রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ফলে প্রথম প্রান্তিকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
তবে মাসভিত্তিক হিসাবে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্সের গতি কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস দেশে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। এর মধ্যে মার্চে সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ডলার এবং মে মাসে ৩৪৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার।
এরপর জুনে রেমিট্যান্স কমে ২৮১ কোটি ডলারে নেমে আসে। জুলাইয়ে আসে প্রায় ২৮৬ কোটি ডলার এবং আগস্টে ২৯৭ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে তা আরও কমে ২৭৭ কোটি ডলারের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে। ফলে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা চার মাসই মাসিক রেমিট্যান্স ৩০০ কোটি ডলারের নিচে রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মাসিক প্রবাহে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশের বেশি রয়েছে। ফলে বছরের বাকি সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কোন দিকে যায়, সেটিই এখন অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন