ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে নিজের সিদ্ধান্তের ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরই যুদ্ধ থামানোর সুযোগ ছিল। তবে তিনি অভিযান আরও এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ২৮ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারটি ১ অক্টোবর প্রকাশ করে টাইম।
যুদ্ধ কেন এত দীর্ঘ হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি আরও এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর অভিযান থামিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল।
তবে ট্রাম্পের দাবি, হামলার পর ইরানের কর্মকর্তারা আবারও তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, একই স্থানে তা সম্ভব না হলে অন্য কোনো জায়গায় সেই কার্যক্রম শুরু করা হতে পারে। এ কারণে তিনি অভিযান বন্ধ না করে আরও এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি চাইলে তখনই থামতে পারতেন, কিন্তু তাঁর কাছে সেটিকে সঠিক সিদ্ধান্ত মনে হয়নি। ইরান যাতে অন্য কোনো রূপে আবার একই ধরনের কার্যক্রম শুরু করতে না পারে, সেটিই তাঁর লক্ষ্য ছিল বলে জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের আগের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরার সঙ্গে একটি দেশকে ধ্বংস করার হুমকির সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে বিশ্বে শান্তি এসেছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর মনে হয় না ইরানের সঙ্গে কখনো স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান নিয়ে আলোচনা চললেও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তিনি ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন