বরিশাল নগরীর একটি ভাড়া বাসা থেকে আমেনা খানম (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকেয়া আজিম সড়কের একটি বাসার শয়নকক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আমেনা খানম হিজলা উপজেলার খুন্না বাজার এলাকার মো. মোশারফ আলীর স্ত্রী। তিনি হিজলার দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা ছিলেন। তাঁর দুই ছেলের একজন ঢাকায় এবং অন্যজন গ্রামের বাড়িতে থাকেন। আমেনা খানম বরিশাল নগরীর রোকেয়া আজিম খালপাড় সড়কে প্রবাসী মো. শাহবুদ্দিনের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় একাই ভাড়া থাকতেন।
উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, আমেনা খানমের বড় ছেলে ঢাকায় একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। সম্প্রতি মায়ের ফোন বন্ধ পেয়ে তিনি কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। পরে ঢাকা থেকে বরিশালে এসে থানায় বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মায়ের ভাড়া বাসায় যান।
পুলিশ সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, বাসার দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া। পরে ছেলের কাছে থাকা চাবি দিয়ে তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। শয়নকক্ষে খাটের ওপর আমেনা খানমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল।
উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পর মরদেহ রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ধারণা করা হচ্ছে, এক-দুই দিন আগে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ, ফরেনসিক ও ক্রাইম টিমের পাশাপাশি সিআইডিও কাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
মরদেহ থেকে কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের ছেলে জানিয়েছেন, তাঁর মায়ের গলায় একটি স্বর্ণের চেইন ছিল। তবে চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। তবে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কাউনিয়া থানার পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন জানান, সর্বশেষ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ছেলের সঙ্গে আমেনা খানমের কথা হয়েছিল। এরপর বুধবার দিনভর তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ছেলে বরিশালে এসে থানায় বিষয়টি জানান এবং পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় গিয়ে মরদেহ দেখতে পান।
ছেলে সরাসরি বাসায় না গিয়ে প্রথমে থানায় কেন গিয়েছিলেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তাঁরাও খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন