বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী শূন্য আসনটি ৯০ দিনের মধ্যে পূরণ করা হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণ হবে, আর একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। যে দল বা জোটের জন্য আসনটি বরাদ্দ, উপনির্বাচনের পর সেই দল বা জোটের প্রার্থীই আসনটি পাবেন।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও এ নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের দপ্তরে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর আসন শূন্য হয়েছে। আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয় গেজেট প্রকাশের ব্যবস্থা করেছে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।
মিষ্টি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর সংসদ সদস্য ছিলেন। বিএনপির মনোনয়নে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর পদত্যাগের ফলে চলতি সংসদে বিএনপির বরাদ্দ পাওয়া সংরক্ষিত নারী আসনগুলোর একটি শূন্য হলো।
পদত্যাগের পর তাঁর পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সাংবিধানিক অযোগ্যতা তৈরি হবে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সংসদ থেকে পদত্যাগ করলেও ভবিষ্যতে দলীয় মনোনয়ন পেলে বা আইনগত শর্ত পূরণ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে এই পদত্যাগ বাধা হবে না।
এদিকে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। মিষ্টি এর আগে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা বা সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন