কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে দেশে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা। তবে কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন এবং বন্ধ মিল-কলকারখানা চালুর মতো কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হলে ক্ষতি হবে দেশের মানুষের। তাই এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টানেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে ওই দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগও উঠছে। তবে একটি ঘটনার তদন্ত চলমান থাকায় সে বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান তিনি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই দলের নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, অন্যদের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার আগে নিজেদের দলের কর্মকাণ্ড ও অভিযোগগুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সতর্ক থাকার এবং কার বক্তব্য বিশ্বাস করা হবে, সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা যেকোনো মূল্যে বজায় রাখতে হবে। নির্বাচনের সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করার বিভিন্ন প্রচেষ্টা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এদিন পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রকল্পের ফলক উন্মোচনের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
প্রকল্পটির মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী ও জলাশয় পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসনের কাজ করা হবে।
পরশুরামের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়েই মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় স্থাপিত রুফটপ সোলার ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন