রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মীদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুই থানায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার।
বুধবার সকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে যাওয়া সড়কে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। অভিযান চলাকালে বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচের দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায়।
এরপর পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে হকারদের পক্ষ থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় ডিএনসিসির ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের গাড়ি, ভেকু ও কয়েকটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও ওঠে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার।
মামলাগুলোর মধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে। মিরপুর মডেল থানার তিন মামলার দুটির বাদী পুলিশ এবং অন্যটির বাদী ডিএনসিসি। এসব মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের গাড়ি ও ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর, সিটি করপোরেশনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
কাফরুল থানায় করা মামলাটিও ডিএনসিসির পক্ষ থেকে করা হয়েছে। চার মামলায় বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মামলাগুলোতে মোট আসামির সংখ্যা প্রায় এক হাজার বা তার বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও, ছবি ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে।
এদিকে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের পরও মিরপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন