ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুদ্ধ শেষ হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ শেষ করতে চায় কি না, সে সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, ইরান কখনোই যুদ্ধ চায়নি এবং এখনো সংঘাত অব্যাহত রাখার ইচ্ছা তাদের নেই।
এর আগে বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না। অন্যদিকে যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা হবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
এর এক দিন আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে কোনো চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগও রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়।
সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি ও নৌপথের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও জটিল হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সংকট তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহেও এর প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগেরও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে এবং নিউইয়র্কে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদলের আলোচনার জন্য ক্ষমতা রয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করাকে যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ানও বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না এবং আন্তর্জাতিক যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী।
ইরানের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) পক্ষভুক্ত দেশ হিসেবে এ অধিকার রয়েছে বলেও তেহরান দাবি করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
চলমান সংঘাতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বহু মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও। ফলে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং দুই পক্ষের অবস্থানই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন