নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নির্ধারণে নতুন নিয়ম প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত বিধিমালায় নিয়োগের ধরন, যোগদানের তারিখ, বয়স, শিক্ষাবর্ষ ও পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের বিস্তারিত বিধান রাখা হয়েছে।
খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, এর বিধান সব নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে। উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একই পদ্ধতিতে পরে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় জ্যেষ্ঠতা পাবেন।
একই সময়ে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দুই বা ততোধিক ব্যক্তিকে কোনো কমিটি বা কমিশনের সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কমিটি বা কমিশনের প্রস্তুত করা মেধাতালিকার ভিত্তিতে তাদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে। মেধাতালিকা না থাকলে বা পাওয়া না গেলে বয়সের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বয়সও একই হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের শিক্ষাবর্ষ বিবেচনা করা হবে। শিক্ষাবর্ষও একই হলে পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে।
সমন্বিত জ্যেষ্ঠতার ক্ষেত্রেও আলাদা বিধান রাখা হয়েছে। পদোন্নতিযোগ্য পদের ফিডার পদে নিয়মিত যোগদানের তারিখের ভিত্তিতে সমন্বিত জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে। যোগদানের তারিখ একই হলে বয়স এবং বয়সও একই হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের শিক্ষাবর্ষ বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ফিডার পদের মেধাক্রমও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে বিবেচিত হবে।
বিভাগীয় পদোন্নতির ক্ষেত্রেও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের নিয়ম রাখা হয়েছে। কমিটি বা কমিশন আগে যাদের পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করবে, তারা পরবর্তী সময়ে সুপারিশ পাওয়া কর্মকর্তাদের তুলনায় জ্যেষ্ঠতা পাবেন। একই ব্যাচের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একসঙ্গে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হলে তাদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা বয়সের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
খসড়ায় পদোন্নতিযোগ্য শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। তবে লিয়েন বা চলতি দায়িত্বের কারণে সৃষ্ট শূন্য পদের বিপরীতে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। নির্ধারিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত পদোন্নতি দেওয়া হলে সেই পদোন্নতিপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা নিয়েও আলাদা বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত বিধিমালায় পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের পরও কেউ স্বেচ্ছায় পদোন্নতি নিতে না চাইলে সেটিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি আইনের আওতায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি) মো. মোস্তফা জামান জানিয়েছেন, ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। একটি খসড়া তৈরি করে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে। তবে বিধিমালাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন