নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্ব নারী নেতৃবৃন্দের বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের এক সভায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারী নেতা, কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন। সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ আরও জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে সভাটির আয়োজন করা হয়।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান ও জাতিসংঘ উইমেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভায় মূল বক্তব্য দেন জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও জাতিসংঘ উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউস।
সিমা বাহাউস বলেন, শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারণের প্রতিটি পর্যায়ে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশ্বজুড়ে নারী নেতারা বিদ্যমান বাধা অতিক্রম করে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ‘জেন্ডার স্ন্যাপশট’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে প্রতি সাতটি দেশের মধ্যে মাত্র একটি দেশের নেতৃত্বে নারী রয়েছেন। বর্তমান অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকলে পূর্ণাঙ্গ লিঙ্গসমতা অর্জনে আরও ১৭১ বছর সময় লাগতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে লিঙ্গসমতা অর্জনের কার্যক্রম আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির নকশা ও উন্নয়নে নারীদের নেতৃত্ব বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘের মহাসচিব পদে নারী নেতৃত্বের সুযোগ তৈরির বিষয়েও সমর্থনের কথা উঠে আসে।
ডা. জুবাইদা রহমান ছাড়াও সভায় অংশ নেন ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী জুডিথ সুমিনওয়া তুলুকা, ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচ এবং বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন আন্ডোরার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইম্মা তোর ফাউস, আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেলেন ম্যাকএন্টি, ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র সচিব থেরেসা লাজারো, আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থরগের্দুর কাত্রিন গুনারসদোতির, জ্যামাইকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামিনা জনসন স্মিথ এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন