সরকার বিরোধী দলের যৌক্তিক দাবি ও বক্তব্য আমলে না নিলে চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই এর চূড়ান্ত ফয়সালা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সাংবাদিকরা ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে। তিনি সাংবাদিকদের তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাক্ষাৎকারের বক্তব্য খণ্ডিত করে উপস্থাপন এবং বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড তৈরির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, বক্তব্যের অংশবিশেষ বাদ দিয়ে প্রকাশ করলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত হলে তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে সবসময় কথা বলতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিন দফায় জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। তার দাবি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামেও পড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানির দামের তুলনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামঞ্জস্য বিবেচনা না করে শুধু দামের তুলনা করা যুক্তিসংগত নয়।
সরকারের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলা হলেও তার পরিবর্তে অনেকে কাজ হারাচ্ছেন বলে তিনি মনে করেন।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন তিনি। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিরোধী দল এর বিরোধিতা করবে বলে জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা অর্থ উপার্জনের জন্য সংসদে যাননি।
জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দল সংসদে একাধিকবার নোটিশ দিলেও তা নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদে আলোচনা না হওয়ায় বিরোধী দল রাজপথে কর্মসূচি পালন করছে বলেও জানান।
ঢাকা-রংপুর লংমার্চ নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি দাবি করেন, লংমার্চের দাবিগুলো শুধু জামায়াতের নয়, বরং জনগণের দাবি। কর্মসূচির আগে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সরকারি দলের সমালোচনার জবাবে তিনি অভিযোগ করেন, কর্মসূচি বানচাল করতেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছে।
নিজের সরকারি সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত সরকারি খরচে কোনো বিদেশ সফর করেননি তিনি। সরকারি ভাতাও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না করে অন্য খাতে দিয়ে দেন বলে দাবি করেন। নিজের জন্য বরাদ্দ সরকারি বাসভবনেও তিনি থাকেন না; বিভিন্ন কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কাজে সেটি ব্যবহার করা হয় বলে জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। সভায় দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী ও কর্মপরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন