ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সাইকেলের লোহার প্যাডেল দিয়ে এক নারী চিকিৎসকের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদনান হোসেন (৩১) নামে ওই যুবককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এ ব্লকের ২ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, আদনান একজন বেকার যুবক এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাতেই তার বাসা। ঘটনার সময় তিনি সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় যানজটে আটকে থাকা একটি প্রাইভেটকারের খুব কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ান তিনি। গাড়িতে থাকা নুসরাত জাহান অর্চি নামের নারী চিকিৎসক তাকে কিছুটা সরে দাঁড়াতে বললে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে আদনান অর্চিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে সাইকেল দিয়ে প্রাইভেটকারে আঘাত করে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
ঘটনাটি দেখে স্থানীয় একজন বাইকার কিছুদূর গিয়ে আদনানকে থামান। এরপর অর্চি গাড়ি থেকে নেমে তার এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলে আদনান হাতে থাকা সাইকেলের লোহার প্যাডেল দিয়ে অর্চির মাথার বাম পাশে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত হন।
আহত চিকিৎসকের স্বামী এনামুল হক থানায় দেওয়া অভিযোগে জানান, তার স্ত্রী অর্চি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে প্রাইভেটকারে করে মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে যাচ্ছিলেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এ ব্লকের ২ নম্বর সড়কে যানজটে আটকা পড়ার সময় সাইকেল আরোহী আদনান তাদের গাড়ির পাশে এসে দাঁড়ান। তাকে খানিকটা সরে দাঁড়াতে বললে তিনি অর্চিকে গালিগালাজ করেন এবং প্রাইভেটকার বাড়িতে রাখতে বলেন।
এনামুল হকের অভিযোগ, একপর্যায়ে আদনান সাইকেল দিয়ে প্রাইভেটকারে আঘাত করে সামনের দিকে চলে যান। পরে একজন বাইকার তাকে থামালে অর্চি গাড়ি থেকে নেমে বিষয়টি জানতে চান। তখনই আদনান সাইকেলের লোহার প্যাডেল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অর্চিকে হুমকি দিয়ে আদনান বলেন, ‘ভাগ্য ভালো বেঁচে গেলি।’ এরপর রাস্তাঘাটে একা পেলে প্রাণে মেরে ফেলার ভয়ভীতিও দেখান বলে অভিযোগ করেন তার স্বামী।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় এনামুল হককে খবর দেওয়া হলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্ত্রীকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত যুবক ও নারী চিকিৎসক কেউই পূর্বপরিচিত নন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ‘হিট অব দ্য মোমেন্টে’ ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে আদনানকে হেফাজতে নিয়ে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন