চুয়াডাঙ্গা শহরের উপশম নার্সিং হোম নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচারের সময় রবগুল মোল্লা (৪৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্লিনিকে ভাঙচুর ও চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গাজুড়ে ৪৮ ঘণ্টা সব ধরনের বেসরকারি ক্লিনিক কার্যক্রম ও চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে জেলা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ক্লিনিক মালিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও অংশ নেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা জেলার সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস থেকে বিরত থাকবেন। তবে সাধারণ মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা বিবেচনায় সরকারি হাসপাতালগুলোর নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যসেবা চালু থাকবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএমএর সভাপতি ডা. হাসানুজ্জামান নূপুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার রাতে দীর্ঘ আলোচনার পর পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রবগুল মোল্লার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উপশম নার্সিং হোম এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্বজন ও স্থানীয়দের একাংশ ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় এ ঘটনা চলে এবং রাত ১১টা পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল বলে জানা গেছে।
এ সময় ঘটনাস্থলে আসা চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএমএর আহ্বায়ক ডা. হাসানুজ্জামান নূপুরের ওপরও অতর্কিত হামলা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
নিহত রবগুল মোল্লা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুবদিয়া গ্রামের খেজমত মোল্লার ছেলে। পেশায় কৃষক রবগুল স্থানীয় একটি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পিত্তথলিতে পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্য শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রবগুল মোল্লাকে উপশম নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। পরদিন শনিবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।
স্বজনদের দাবি, ক্লিনিকের মালিক ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এহসানুল হক তন্ময় অস্ত্রোপচার শুরু করেন। অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক হিসেবে সেখানে ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাইসুল ইসলাম জুয়েল।
অস্ত্রোপচারের সময় অপারেশন থিয়েটারের টেবিলেই রবগুল মোল্লার মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের কর্মসূচির ফলে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালের জরুরি ও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা চালু রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন