সৌদি আরবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাসগুলো নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। এসব সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
বাহরাইন, ইসরায়েল, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন দূতাবাসগুলো জানিয়েছে, চলমান সামরিক সংঘাত দ্রুত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো জটিল বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় সম্ভাব্য উড়োজাহাজ চলাচল বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার হুথিরা দাবি করে, সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে তারা দুটি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের দাবি, সৌদি হামলার জবাবে এসব অভিযান চালানো হয়।
হুথিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম অভিযানে সৌদি রাজধানী রিয়াদের ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনা এবং দ্বিতীয় অভিযানে ইয়ানবু শহরে সৌদি আরামকোর স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়।
তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। জোটের দাবি, বায়িশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবুকেও হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে সেগুলোও প্রতিহত করা হয়।
এদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আগুন ও ধোঁয়া দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর প্রভাবে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্য ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে হুথিদের দাবির সবগুলো তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
গত জুলাইয়ে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটির শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবও হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের অগ্রযাত্রা ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন