যুক্তরাজ্যের নতুন কঠোর শিক্ষার্থী ভিসা নীতির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগে। নিজেদের স্পনসর লাইসেন্সের ঝুঁকি কমাতে দেশটির কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও ‘কনফারমেশন অব অ্যাকসেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ’ (সিএএস) দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি কড়াকড়ি আরোপ করেছে। কোথাও পুরো বাংলাদেশ থেকে আবেদন সীমিত করা হয়েছে, আবার কোথাও নির্দিষ্ট অঞ্চল, কোর্স বা ডিগ্রি পর্যায়ে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের সংশোধিত ‘বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্ট’ (বিসিএ) কাঠামো অনুযায়ী, ১ জুন ২০২৬ থেকে শিক্ষার্থী স্পনসরদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে রাখতে হবে। এর আগে সীমা ছিল ১০ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে স্পনসর লাইসেন্সের ওপর নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এই পরিবর্তনের পর কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিজেদের ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থীকে সিএএস দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানকে যুক্তিসংগতভাবে নিশ্চিত হতে হবে যে ওই শিক্ষার্থী ভিসার শর্ত পূরণ করবেন এবং যুক্তরাজ্যে অবস্থানের শর্ত মেনে চলবেন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে অঞ্চল ও কোর্সভিত্তিক বিধিনিষেধের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। যেমন, ইউনিভার্সিটি অব আলস্টারের বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং সিলেট থেকে আবেদন গ্রহণ না করার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট মাস্টার্স কোর্সেও আবেদন সীমিত করা হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ব্র্যাডফোর্ডও বাংলাদেশ থেকে স্ব-অর্থায়নে পড়তে আগ্রহী কিছু পোস্টগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাষ্য অনুযায়ী, ইউকেভিআইয়ের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বিবেচনায় নিয়ে নিজেদের স্টুডেন্ট স্পনসর লাইসেন্স সুরক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পূর্ণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও পিএইচডি আবেদনকারীরা এই স্থগিতাদেশের আওতায় নেই।
এদিকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা পরামর্শদাতাদের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও কিছু প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত যাচাই বা আঞ্চলিক বিধিনিষেধ দেখা যাচ্ছে। আর্থিক নথি, শিক্ষাগত ইতিহাস, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, সাক্ষাৎকার এবং ভিসা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের ওপর প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ না করে নির্দিষ্ট কোর্স বা ডিগ্রি পর্যায়ে আবেদন সীমিত করছে। ফলে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কোর্সে আবেদন করা গেলেও অন্য কোনো কোর্সে আবেদন বা সিএএস পাওয়া নাও যেতে পারে।
তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ‘ভিসা ব্রেক’ নীতিতে শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের নাগরিকদের আবেদন প্রত্যাখ্যানের বিধান রয়েছে; বাংলাদেশ এই তালিকায় নেই।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যে পড়তে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন বা নন-রিফান্ডেবল টিউশন ফি জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ ভর্তি নীতি, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য কোনো আঞ্চলিক বা কোর্সভিত্তিক বিধিনিষেধ আছে কি না এবং সিএএস দেওয়ার নিশ্চয়তা সম্পর্কে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নীতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন