স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে ভোটের মাঠে প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন গোছানো, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটানো এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে দলগুলোর নেতাকর্মীরা তৎপর রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর কথা রয়েছে। তবে ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশন জানায়, পরীক্ষা, রমজান ও নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়গুলো সমন্বয় করে ভোটের সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করতে আরও কাজ প্রয়োজন।
দেশে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সামনে রয়েছে। ইসির পরিকল্পনা হলো প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করা। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যানার, পোস্টার ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
বিএনপি স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকার মতো বিষয় বিবেচনায় প্রার্থী বাছাইয়ের কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের অনুসারীদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে মতপার্থক্যের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
দলটির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও সাংগঠনিকভাবে সমন্বিত প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো এলাকায় বিরোধ দেখা দিলে তা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক সাংগঠনিক বৈঠক করছেন।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব এলাকায় ভালো ফল করেছে, সেসব অঞ্চলে স্থানীয় নির্বাচনে গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনে জয় পাওয়া এবং তুলনামূলক ভালো ভোট পাওয়া এলাকাগুলোতে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনে সব এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
জাতীয় নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলগুলো আলাদাভাবে নির্বাচন করবে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দলটির নেতারা স্থানীয় নির্বাচনের বাস্তবতা জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় ভিন্ন বলেও উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দলটির নেতাদের ভাষ্য, স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনকে বিস্তৃত করা এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো তাদের অন্যতম লক্ষ্য। বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামও পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোটও রাজনৈতিক দলগুলোর হিসাবের অংশ হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশন এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আইনগতভাবে যোগ্য ব্যক্তিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন—তবে কোনো দলের পরিচয়ে দলীয়ভাবে নির্বাচন করার সুযোগ থাকবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে ভোটের চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা হওয়ার আগেই স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ছে। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, সমঝোতা, অভ্যন্তরীণ বিরোধ মীমাংসা এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ—এসব নিয়েই এখন তৃণমূলে চলছে প্রস্তুতি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন