সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে যোগদান করানোর প্রশাসনিক আদেশ অনুমোদন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের যোগদান করানোর প্রক্রিয়ায় আর কোনো বাধা থাকল না। যোগদানের পর তাদের পদায়নও করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের দুজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানপত্র সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানোর প্রশাসনিক আদেশ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বৃহস্পতিবার এতে স্বাক্ষর করেছেন। মন্ত্রণালয়ের আদেশ অধিদপ্তরে পৌঁছালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে যোগদান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর এ কার্যক্রম শুরু হবে। ১ অক্টোবরের মধ্যে সব সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক যোগদান করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর তাদের পদায়ন করা হবে।
যোগদানের পর নতুন সহকারী শিক্ষকদের দুই মাসের প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগে তাদের শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হবে না।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, প্রশিক্ষণ চাকরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়নের সঙ্গে সঙ্গে নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়া উচিত। দুই মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তারা বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু করতে পারবেন।
এর আগে প্রাথমিকের ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিভিন্ন বক্তব্যে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও তাড়াহুড়োর অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন।
একপর্যায়ে সুপারিশপ্রাপ্তদের যোগদানের শর্ত হিসেবে প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি বলা হলেও বর্তমানে মন্ত্রণালয় সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। প্রশিক্ষণের মূল্যায়নে কেউ উত্তীর্ণ না হলেও নিয়োগ বাতিল করা হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয় এবং জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সব ধাপ শেষ করেও চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত এসব শিক্ষক এতদিন যোগদান করতে পারেননি। তবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের যোগদান ও পদায়নের ঘোষণা দিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ প্রশাসনিক আদেশ অনুমোদনের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন