সৌদি আরবের তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। ওমানের উপকূলে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। এতে মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৯২ ডলার বা ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৪০ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৪৩ ডলারে দাঁড়ায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে সৌদি আরব ওমানের সোহার বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর তেল সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, বিকল্প সরবরাহের এই উদ্যোগে তা কিছুটা কমেছে। ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভোর মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সৌদি আরব তেল রপ্তানি করতে পারছে—এমন খবর সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কমিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার তেলের দাম তিন ডলারের বেশি বেড়েছিল। ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল জাহাজ চলাচল-সংশ্লিষ্ট সূত্র। ইউরোপের কয়েকজন ক্রেতার তেলবাহী চালানও বাতিল করেছিল রিয়াদ।
কমেছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালি ছিল বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ।
বুধবার প্রকাশিত প্রাথমিক জাহাজ চলাচলের তথ্যে দেখা গেছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে দৃশ্যমান জাহাজ চলাচল ছিল মাত্র চারটি। আগের দিন ছিল সাতটি। আর গত ১০ দিনের গড় ছিল ১৮টি।
যুক্তরাষ্ট্রের মজুতেও প্রভাব
তেলের দাম কমার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুতের তথ্যও ভূমিকা রেখেছে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল।
তবে রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত ১৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। অর্থাৎ প্রত্যাশার তুলনায় মজুত কমেছে অনেক কম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিন ও ডিস্টিলেটের মজুত বেড়েছে।
বিশ্লেষক জন কিলডাফের মতে, পরিশোধিত জ্বালানির মজুত স্থিতিশীল থাকা বা বাড়তে থাকায় তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখনো বড় ঝুঁকি
তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত তেলের বাজারের জন্য এখনো বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়েছে। সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। হুথিরা ইয়ানবু বন্দরেও নতুন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
সিটি গ্রুপের মতে, আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে ব্যাংকটির ধারণা, আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগের সহায়তায় ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে যেতে পারে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন