বাংলাদেশ জনতা পার্টির প্রেসিডেন্ট মিঠুন চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি নির্যাতন, অবিচার এবং হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলায় জেল-জরিমানার শিকার হয়েছেন। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করেন। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশের মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয়ে তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট মিঠুন চৌধুরী তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রাম, দলের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, জনগণের জন্য কাজ করার লক্ষ্যেই আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় তিনি বাংলাদেশ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে গণতন্ত্র, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২১ দফা রাজনৈতিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত ২১ দফা পরিকল্পনায় রয়েছে—
১. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ: একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না—এমন সাংবিধানিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. রাজনৈতিক সংস্কার: প্রতিহিংসা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও হয়রানির সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার: ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।
৪. প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ: স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক সংস্কার।
৫. কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষা: কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার প্রসার।
৬. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ: গণতান্ত্রিক ভারসাম্য ও আইন প্রণয়নে অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক সংস্কার।
৭. নারীর সমঅধিকার: ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি বা পরিচয় নির্বিশেষে নারীর সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৮. নির্যাতনমূলক ও বিতর্কিত আইন সংস্কার: নাগরিকের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার বিবেচনায় আইন পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার।
৯. কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি: সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ।
১০. দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: সরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
১১. শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত ইন্টারনেট: শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ।
১২. গবেষণা ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা: বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়া।
১৩. সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা: জনগণের জন্য সহজলভ্য ও সবার নাগালের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
১৪. শিক্ষিত বেকারদের সহায়তা: যোগ্য ও শিক্ষিত বেকারদের নির্দিষ্ট সময়ের সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
১৫. মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি: কর্মজীবী মা-বাবার জন্য ছুটির ব্যবস্থা সম্প্রসারণ।
১৬. তরুণদের সহজ শর্তে ঋণ: তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ প্রদানের নীতিমালা প্রণয়ন।
১৭. নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসন: সাশ্রয়ী আবাসন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ।
১৮. ঋণখেলাপি আদায় ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা: ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণসুবিধা নিশ্চিত করা।
১৯. গণমাধ্যমকর্মীদের কল্যাণ: গণমাধ্যমকর্মীদের আবাসন, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তায় বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ।
২০. মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও অধিকার: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি না করার আহ্বান।
২১. কৃষকের সুরক্ষা ও কৃষি অর্থনীতি: কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ, কৃষিবীমা এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
মিঠুন চৌধুরী বলেন, অতীতে তার ওপর যে অন্যায় হয়েছে, তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তারা রাজনীতি করতে চান না। এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য, যেখানে সবার জন্য আইনের শাসন সমান থাকবে এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জনতা পার্টি জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে ক্যান্সার গবেষক ও অধ্যক্ষ ডা. এস এম সারোয়ার, রাজনীতিবিদ ও উপস্থাপিকা সুমি প্রেয়সি, বাংলাদেশ জনতা পার্টির দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান এবং সহদপ্তর ও প্রচার সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন