পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ইন্টারনেট বন্ধের ১০০ দিন পেরিয়ে গেছে। গত জুনে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অঞ্চলটির মোবাইল ডেটা ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
স্বাধীন ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, গত ৫ জুন থেকে অঞ্চলটিতে আংশিকভাবে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই নিষেধাজ্ঞায় দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অনলাইন ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপেও প্রবেশ করতে পারছেন না অনেকে। এতে ব্যবসায়িক লেনদেন ও অন্যান্য কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে ভর্তি পরীক্ষাও পিছিয়ে দিয়েছে সরকার।
বিক্ষোভ ঘিরে ইন্টারনেট বন্ধ
স্থানীয় নির্বাচনের আগে গত জুনে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ২৭ জুলাই স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এর আগে ৫ জুন কর্তৃপক্ষ জাম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেকেজেএএসি) নিষিদ্ধ করে।
সংগঠনটি নির্বাচনী আইনসভায় ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল।
বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২৭ জুলাই সহিংস সংঘর্ষের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রের দাবি, এতে নিহতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত সদস্যও রয়েছেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নতুন সরকার হলেও চালু হয়নি ইন্টারনেট
সহিংস পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি বিক্ষোভপ্রবণ এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে ভোট গ্রহণ করা হয়নি। তবে অঞ্চলটির অন্যান্য এলাকার নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট তিন ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোট গ্রহণ শেষ হয়। এরপর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি চালু হয়নি।
দীর্ঘদিনের ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞার কারণে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা, ব্যাংকিং, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নাগরিকদের দৈনন্দিন বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরের অংশ
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর অঞ্চলের একটি অংশ। আধা-স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলের নিজস্ব প্রধানমন্ত্রী ও ৪৫ সদস্যের আইনসভা রয়েছে।
এর মধ্যে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে।
বিক্ষোভের পর ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা নতুন সরকার গঠনের পরও বহাল থাকায় অঞ্চলটির মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন