ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় পদদলিত হয়ে কেউ মারা যাননি বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবীর। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিভাগীয় কমিশনার জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত মৃত্যুর তালিকায় থাকা একজন বর্তমানে জীবিত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি চারজনের মধ্যে দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, স্বাভাবিক মৃত্যুর পর তাদের হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় মো. রমজান আলী ও কুলছুমা বেগম নামে দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তবে তাদের বিস্তারিত ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বাকি দুজনের মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান বিভাগীয় কমিশনার। চিকিৎসকরাও তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি।
এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কিছু মানুষ আহত হয়েছেন। কারও হাত-পা কেটে যাওয়া বা মাথায় আঘাত লাগার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস, কর্তব্যরত চিকিৎসক, হাসপাতালের স্টাফ এবং রেজিস্টারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হয়েছে। কোথাও পদদলিত হয়ে মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম বা কারও দায় পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
যেভাবে আগুনের সূত্রপাত
সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে মমেক হাসপাতালের নতুন ভবনের একটি নষ্ট লিফট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ সদর এলাকার তিনটি ইউনিট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইউনিটসহ মোট চারটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাসপাতালের স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার জানান, দুর্ঘটনাকবলিত লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট ছিল এবং সেখানে ময়লা-আবর্জনা জমে ছিল।
হাসপাতালের আনসার ও পুলিশ সদস্যদের ধারণা, সিগারেটের আগুন অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে আটতলার নতুন ভবনে থাকা রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা দ্রুত নিচে নেমে আসেন। এতে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয় এবং হুড়োহুড়ির মধ্যে কয়েকজন আহত হন।
ব্রিফিংয়ে ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ডিআইজি জাহিদুল হাসান, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার কামরুল হাসান এবং হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন