বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘মৌলবাদী মবকে সমর্থন’ করার অভিযোগ তুলে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী এআর তাহসীন জাহান।
স্নাতক পর্যায়ে ভালো ফলের স্বীকৃতি হিসেবে সোমবার সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৬টি বিভাগের ৪৬ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। ওই তালিকায় নিজ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী তাহসীন জাহানের নামও ছিল। তবে পুরস্কার গ্রহণ না করে নিজের অবস্থান ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেন তিনি।
তাহসীন জাহান বলেন, চার বছরের স্নাতকজীবনে কঠোর পরিশ্রম করে যে পুরস্কারের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন, সেটি প্রত্যাখ্যান করা তার জন্য সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে কোনো পুরস্কারের মর্যাদা একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে নয় বলে মনে করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ২০২৪ সালে তিনি মবের হামলার শিকার হন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও নিজ বিভাগে হুমকির মুখে পড়েন। এমনকি তাকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নেওয়া ও স্নাতক থিসিস জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
নিজের নিরাপত্তার কারণে একপর্যায়ে ক্যাম্পাসে ফিরতে না পারার কথাও জানান তাহসীন। তাঁর ভাষ্য, বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে পাশে দাঁড়ানোয় তিনি নিরাপদ স্থান থেকে অনলাইনে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।
তাহসীন আরও দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মতো হাজারো শিক্ষার্থী রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সংকটে পড়েছেন। এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষার অধিকার সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কোনো শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি ন্যায়বিচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাহসীনের অভিযোগ, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হামলার ক্ষেত্রে নীরব থেকেছে এবং ‘মৌলবাদী মবকে’ সমর্থন করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তাহসীন বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য ডিনস অ্যাওয়ার্ডের মর্যাদা বা পুরস্কারকে ছোট করা নয়। বরং যেসব সহপাঠী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তাদের প্রতি সংহতি জানাতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, অন্যায়ের পরিবর্তে আরেকটি অন্যায় কখনো বিকল্প হতে পারে না এবং ন্যায়বিচার সবার জন্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন