দুই দশকের বেশি সময় পর আবারও নিজের পরিচিত অঙ্গন বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনে ফিরেছেন ক্রীড়া সংগঠক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল। গত ১৮ জুলাই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ২৮টি ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সজল।
দায়িত্ব নিয়ে সাঁতারের পুরোনো ঐতিহ্য ও সাফল্যের ধারায় ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। বিশেষ করে আগামী বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় সাউথ এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে চান নতুন সাধারণ সম্পাদক।
দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক জয়ের অন্যতম ইভেন্ট ছিল সাঁতার। তবে ২০১৯ সালের কাঠমান্ডু গেমসে সেই ধারায় ছেদ পড়ে। আগামী আসরে সেই সাফল্য ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সজল।
দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই মাসের মধ্যেই সাঁতার অঙ্গনে দুটি সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতেছেন জাতীয় দল ও নৌবাহিনীর সাঁতারু রাফিউল ইসলাম রাফি। এছাড়া ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মুর্শিদাবাদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব দূরপাল্লার সাঁতার প্রতিযোগিতায় ফয়সাল, পলাশ ও সোনিয়ার হাত ধরে এসেছে পদক।
এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত সজল বলেন, সাঁতারে সাফল্য একদিনে আসে না; এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। মুর্শিদাবাদে বাংলাদেশের সাফল্যের পেছনে ফেডারেশনের সভাপতির সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কাপ্তাই লেকে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ায় প্রতিযোগীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি নিতে পেরেছেন।
প্রায় ২০ বছর ফেডারেশনের বাইরে থাকার পর ২০০৭ সালের পর আবারও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ফিরেছেন সজল। নতুন কমিটি নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সজল বলেন, নতুন কমিটিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদকজয়ী খেলোয়াড়সহ অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য ব্যক্তিরা রয়েছেন। সবার সমন্বয়ে শক্তিশালী কমিটি গঠিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রতিভা অন্বেষণে জোর দিয়েছেন সজল। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে পাঁচ বছর মেয়াদি ক্রীড়া পঞ্জিকা। এর আওতায় জাতীয় সাঁতার, ডাইভিং ও ওয়াটারপোলো, বয়সভিত্তিক সাঁতার, ট্যালেন্ট হান্ট এবং জাতীয় দূরপাল্লার সাঁতার প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজনের পাশাপাশি স্বাধীনতা কাপ ও বিজয় দিবস কাপ চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় ক্লাব প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে জেলার অংশগ্রহণে নতুন একটি জাতীয় প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান সাঁতারু তুলে এনে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে প্রস্তুত করার লক্ষ্য নিয়েছে ফেডারেশন।
সজল বলেন, সাফল্য পেতে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করে সাঁতারকে এগিয়ে নিতে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে সাঁতার ফেডারেশনের সামনে রয়েছে বেশ কিছু অবকাঠামোগত সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে অচল ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড এবং বিদ্যুৎ বিলসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।
এসব সমস্যার বিষয়ে নতুন কমিটি অবগত বলে জানিয়েছেন সজল। দ্রুত এসব বিষয় নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সাঁতারের পুরোনো সাফল্যের ধারায় ফেরাতে প্রশিক্ষণ, তৃণমূল উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান—এই তিন ক্ষেত্রেই একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করছে নতুন অ্যাডহক কমিটি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন