কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার বানাশুয়া গ্রামের প্রায় দুই একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে মদিনা অ্যাগ্রো ফার্ম। মাছের পুকুর, গরুর খামার ও লেয়ার মুরগির ফার্ম নিয়ে গড়ে ওঠা এই সমন্বিত কৃষি উদ্যোগে এখন গরুর দুধ ও মুরগির ডিম উৎপাদনের পাশাপাশি গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা থেকে তৈরি হচ্ছে বায়োগ্যাস।
২০২১ সালে শখের বশে খামারটি গড়ে তোলেন উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলী নয়ন। বর্তমানে খামারটিতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের একটি কার্যকর উদ্যোগ গড়ে উঠেছে।
খামারের প্রতিদিনের গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক পচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে খামারের রান্নাঘর এবং আশপাশের ৪০টি পরিবারের চুলায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলী নয়ন বলেন, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা জমত, যা পরিষ্কার করা ছিল ঝামেলার। পরে এসব বর্জ্য কাজে লাগানোর চিন্তা থেকে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। এখন খামারের রান্নার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আশপাশের ৪০টি পরিবারও এই গ্যাস ব্যবহার করছে।
তার ভাষ্য, আগে যেসব বর্জ্য ফেলে দিতে হতো, এখন সেগুলোই জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগছে। এতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা কমার পাশাপাশি বাড়তি সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও বায়োগ্যাস ব্যবহারে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। গৃহিণী মাহফুজা মুক্তা বলেন, বায়োগ্যাস থাকায় রান্নার জ্বালানি নিয়ে আলাদা করে চিন্তা করতে হয় না। একই সঙ্গে গোবর ও মুরগির বিষ্ঠার মতো বর্জ্য এখন পরিবেশের জন্য সমস্যা না হয়ে মানুষের কাজে লাগছে।
খামারের কর্মচারী রাকিব জানান, আগে গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা পরিষ্কার করে অন্যত্র রাখতে হতো। এখন নিয়মিত সেগুলো প্ল্যান্টে দেওয়া হয়। ফলে বর্জ্য সরানোর ঝামেলা কমেছে এবং সেগুলোই কাজে লাগছে।
মদিনা অ্যাগ্রোর বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ আসছেন। তারা গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা থেকে গ্যাস উৎপাদন, প্ল্যান্টের খরচ এবং বাড়িতে গ্যাস সরবরাহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম আজম বলেন, বায়োগ্যাসের বড় সুবিধা হলো বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা। গরু ও মুরগির খামারের বর্জ্য ব্যবহার করে গ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও সহজ করা যায়।
তিনি জানান, ইমপ্যাক্ট-৩ প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন, পরিচালনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কুমিল্লা জেলায় ১১৭টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্ল্যান্টের মাধ্যমে কয়েক হাজার মানুষ গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি ও খামারনির্ভর এলাকায় বায়োগ্যাসের সম্ভাবনা অনেক। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করে একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা কমানো সম্ভব, অন্যদিকে উৎপাদন করা যায় বিকল্প জ্বালানি। জ্বালানি সংকট ও বাড়তি খরচের পাশাপাশি খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বায়োগ্যাস কার্যকর সমাধান হতে পারে।
SEO ট্যাগ/কীওয়ার্ড:
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন