চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় জৈনপুর পরিবহনের বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার এক নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালকসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোর পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের নাগদা বড় বাড়ির সামনে মতলব-নারায়ণপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদিয়া আক্তার (২৩) খাদেরগাঁও ইউনিয়নের গিলাতলী গাজী বাড়ির প্রবাসী ইসমাইল হোসেন গাজীর স্ত্রী। তাঁর তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
আহতরা হলেন অটোরিকশাচালক মো. ফারুক (৪২), যাত্রী মো. জিলানী (৩২), হোসনে আরা (৪৫) ও পারভীন বেগম (৩৭)। তাঁদের সবার বাড়ি গিলাতলী গ্রামে এবং তারা পরস্পরের আত্মীয়।
স্থানীয়রা জানান, ফজরের নামাজের পর সাদিয়া আক্তারসহ চার যাত্রী অটোরিকশায় করে নাগদা গ্রামের এক আত্মীয়ের জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। পথে নাগদা বড় বাড়ির সামনে অটোরিকশাটি থামানো অবস্থায় চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী জৈনপুর পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে সেটিকে ধাক্কা দেয়।
এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালকসহ পাঁচজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে সাদিয়া আক্তারকে মৃত অবস্থায় নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নুরে আলম তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পারভীন বেগম, হোসনে আরা ও মো. জিলানীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মতলব দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত নারীর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, দুর্ঘটনার পর জৈনপুর পরিবহনের বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। বাস ও অটোরিকশা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন