ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্ত হলে এর পরিণতি ‘মারাত্মক’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সিউল সামরিক সহায়তা দিতে পারে—এমন খবর সামনে আসার পর ইরানের পক্ষ থেকে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি বা অভিযানকে ‘আগ্রাসনকারীদের প্রতি সরাসরি সমর্থন’ হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান।
তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে এ অঞ্চলের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া কোনো দায়িত্বশীল দেশের জন্য উচিত হবে না।
ইরানের এ হুঁশিয়ারির বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের চাপ, বাড়ছে সিউলের সংকট
ইরানের এই হুঁশিয়ারির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগস্ট থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং প্রাথমিকভাবে এতে সাড়া না দেওয়ায় ওয়াশিংটন অসন্তোষ প্রকাশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের নির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়ার কিছু অংশ কমানো ও বাতিল করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে কঠিন সিদ্ধান্ত
বর্তমানে ত্রিমুখী চাপের মুখে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং। একদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার আমদানিকৃত তেলের বড় একটি অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা দেশটির অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক মিত্র। ফলে ওয়াশিংটনের চাপও উপেক্ষা করা সিউলের জন্য সহজ নয়।
তবে ইরানের সরাসরি যুদ্ধসংক্রান্ত হুমকির পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরেও বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সামরিকভাবে সংঘাতে জড়ানোর বিরোধিতা রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, বিদেশে কোনো সামরিক বাহিনী বা দল পাঠাতে হলে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অনুমোদন পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ইরানের হুঁশিয়ারি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ—এই তিন দিক সামলে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পরীক্ষার মুখে পড়েছে সিউল প্রশাসন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন